রাজৈরে ফেলনা প্লাস্টিকে চলে সংসার - Bongo Songbad

Bongo Songbad

Spread News Fast Is Our Concern

ব্রেকিং নিউজ

Saturday, January 5, 2019

রাজৈরে ফেলনা প্লাস্টিকে চলে সংসার

প্লাস্টিকশিল্প একটি সম্ভাবনার নাম। প্লাস্টিকের পুরনো পাইপ কিংবা খালি বোতল এখন আর ফেলে দেওয়ার নয়। কারণ এসব ফেলনা প্লাস্টিক থেকে দেশেই বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি হচ্ছে। আবার প্লাস্টিক দানা রপ্তানি করেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি দূষণমুক্ত হচ্ছে পরিবেশ।
সব শ্রেণির মানুষ ঘর সাজাতে প্লাস্টিকের বিভিন্ন ধরনের পণ্য কিনে থাকে। এসব সামগ্রী সাশ্রয়ী, সহজে ব্যবহারযোগ্য, কম ঝুঁকিপূর্ণ, নজরকাড়া নকশা, টেকসই হওয়ার কারণে এর ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে। আগে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্য রাস্তায় পড়ে থাকত। এখন রাস্তাঘাটে ফেলনা প্লাস্টিক খুব কমই চোখে পড়ে। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর পরিবর্তন ঘটছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাদা, লাল ও সবুজ রঙের প্লাস্টিক বোতলসহ অন্য ফেলনা প্লাস্টিকের পণ্যসামগ্রী পুনরুৎপাদন (রিসাইক্লিং) করা হচ্ছে।
রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পুরনো প্লাস্টিক থেকে নতুন ঝুড়ি, প্লেট, জগ, মগ, চেয়ার, বালতি, চামচ, টেবিল, হ্যাঙ্গার, ক্লিপ, বোতাম, বোতল, খেলনা বল, পুতুল, গাড়ি, পোশাক খাতের সরঞ্জাম, গৃহনির্মাণসামগ্রী, গাড়ি ও সাইকেলের যন্ত্রাংশ, পোল্ট্রি ও মত্স্য খাতের বিভিন্ন পণ্য তৈরি হচ্ছে। অফিসে ব্যবহারের জন্য পেপারওয়েট, স্কেল, বলপেন, ফাইল কাভারও তৈরি করা হচ্ছে। আর এ কাজের জন্যই বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফেরিওয়ালারা ব্যবহৃত প্লাস্টিকসামগ্রী সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করছে। ফলে তাদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। হতদরিদ্র, ছিন্নমূল মানুষ ও পথশিশুরা রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা পুরনো প্লাস্টিক পণ্য সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এগুলো স্থানীয় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীরা কেজি হিসেবে কিনে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে। পাইকারি বিক্রেতারা সেগুলো কেনার পর বোতল থেকে লেবেল ছাড়িয়ে রংভেদে আলাদা করার পর ছোট ছোট টুকরা করে রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর, লালবাগ, ইসলামবাগসহ নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, কুমিল্লা ও রাজশাহীর রিসাইক্লিং কারখানায় বিক্রি করছে।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পান্থাপাড়ায় এমন একটি পুরনো প্লাস্টিক সংগ্রহশালা গড়ে উঠেছে। সেখান থেকে প্রতিদিন টন টন ছোট প্লাস্টিক টুকরা ৫০-৬০ কেজির প্যাকেটে করে দেশের বিভিন্ন রিসাইক্লিং কারখানায় সরবরাহ করা হয়। এই মালপত্র সংগ্রহ করা গাড়ির ড্রাইভার একলাস মোল্লা বলেন, ‘আমরা টেকেরহাট, শিবচর, পাচ্চর, ভাঙ্গা, পুলিয়াসহ আশপাশের এলাকা থেকে পুরনো বোতলসহ অন্যান্য পুরনো প্লস্টিক পণ্য সংগ্রহ করে পান্থাপাড়ায় নিয়ে আসি।’
বোতল বাছাইকর্মী রুমা বেগম বলেন, ‘চার হাজার ৫০০ টাকা মাসিক বেতনে কাজ করি।’
কারখানাটির প্রধান শ্রমিক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা প্লাস্টিকগুলো মেশিনে কেটে সাত সুতা সাইজের টুকরায় পরিণত করি। তারপর সেগুলো ছোট ছোট প্যাকেট করে বিভিন্ন রিসাইক্লিং কারখানায় সরবরাহ করে থাকি। আমি মাসে ১২ হাজার, অন্যরা আট হাজার করে টাকা পায়।’
কারখানার মালিক রিয়াজ সিকদার বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ কাজে অনেক টাকার দরকার হয়। আমার টাকা না থাকায় ব্যবসা ঠিকমতো করতে পারি না। জমিজমা বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা নিয়ে শুরু করেছি। আরো টাকা দরকার। আমি ঢাকার ইসলামবাগে মাল সাপ্লাই দিয়ে থাকি।’

No comments:

Post a Comment

Pages